বগুড়ায় নির্বাচনী সহিংসতা: বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় দলই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। মঙ্গলবার বিকালে বগুড়া প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন নন্দীগ্রাম থানার ওসি ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অপসারণ দাবি করেছেন।
বিএনপি প্রার্থীর তীব্র অভিযোগ
বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে ভোট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এই হামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ও তার ভাই গুরুতর আহত হন।
মোশারফ হোসেন বলেন, "এ সময় বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বগুড়ার মতো জায়গায় এমন ঘটনা হলে অন্য স্থানে কী হতে পারে তা নিয়ে আমি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছি।" তিনি আরও যোগ করেন যে প্রশাসনকে অবহিত করা সত্ত্বেও তারা সময়মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আহত নেতার ছেলের মর্মস্পর্শী বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে উল্লেখ করা হয়:
- ওই হামলার ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দাখিল করা হচ্ছে
- অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে
- ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিচার দাবি করা হয়েছে
সিয়াম আকন্দ বলেন, "আমার বাবার অবস্থা ভালো নয়, তিনি চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। তাকে ইতিমধ্যে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।"
জামায়াত প্রার্থীর পাল্টা অভিযোগ
পালটা সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বিএনপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা তার সমর্থকদের ওপর হামলার বিচার দাবি করেন।
ড. পারভেজ বলেন, "সোমবার রাতে নন্দীগ্রামে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে চোখ হারানো 'জুলাইযোদ্ধা' আবদুল্লাহেল গাবিল 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণার সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর মেম্বারের নেতৃত্বে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন:
- একইদিনে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ফারুক হোসেনকে বিএনপির কুখ্যাত সন্ত্রাসী মাসুদ রানা বাহিনীর নেতৃত্বে বেধড়ক মারধর করা হয়
- মাসুদের বাড়িতে তাকে বেঁধে রাখা হয়
- পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি
উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন:
- জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা
- সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল
- জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, "বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি প্রশাসন এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।"
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন:
- বগুড়া শহর জামায়াতের আমির ও বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল
- সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক
- জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাকিম
- শ্রমিক নেতা আজগর আলী
ভোট কেনাবেচার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, "জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে না; এটা সম্পূর্ণ গুজব মাত্র। এটা আর জনগণ বিশ্বাস করে না।" তিনি বিএনপির প্রার্থীকে মানবকল্যাণে ও সুন্দর রাজনীতির চর্চা করার আহ্বান জানান।
ড. পারভেজ আরও বলেন, "আমি প্রকৃত ঘটনা তদন্তে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
বগুড়ায় এই ঘটনায় নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় দলই আইনানুগ ব্যবস্থা ও তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
