নির্বাচনী সহিংসতায় ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনে ৫৮টি ঘটনা, আহত ৪৮৯
নির্বাচনী পরিবেশকে ঘিরে দেশে সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে মোট ৫৮টি সহিংস ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে আহত হয়েছেন ৪৮৯ জন। এসব ঘটনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) পূর্বাভাস দিয়েছে যে ভোট পড়তে পারে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ, তবে সহিংসতা এই লক্ষ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন বন্ধের সময় অনিশ্চিত
নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কতক্ষণ এটি বন্ধ থাকবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই ব্যবস্থা যানজট এবং ভ্রমণকারীদের অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মহাসড়কে তীব্র যানজটের প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করছে।
হুমকি ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ
নির্বাচনী প্রচারণায় হুমকির মাত্রাও উদ্বেগজনক। ‘অন্য দলকে ভোট দিলে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া ছারখার করে দেবো’—এমন হুমকি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে, জুলাই-আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞকে পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
শেখ নেয়ামুল করিম সতর্ক করে দিয়েছেন যে ‘দাঁড়িপাল্লার বিজয় আটকানো যাবে না’। তার এই মন্তব্য নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকার ভোটে দিল্লির হিসাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরছে। ডিসির বাসভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবেদন এবং শনিবার কিছু ব্যাংকের শাখা খোলা থাকার ঘোষণাও নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সর্বোপরি, নির্বাচনী সহিংসতা এবং অনিশ্চয়তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ইসি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে কিনা, তা এখন সবার নজরে।
