নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলে ইসির কঠোর নির্দেশ, অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড
নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলে ইসির কঠোর নির্দেশ

নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলে ইসির কঠোর নির্দেশনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই পরিপত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দাখিলে ব্যর্থ হলে জেল ও জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ও পদ্ধতি

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে (বিজয়ী ও পরাজিত উভয়) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন (ফরম-২২) দাখিল করতে হবে। যারা এজেন্ট নিয়োগ করেননি, তারা নিজেই এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন এবং ফরম-২২ এ এফিডেভিটসহ হিসাব জমা দেবেন। এছাড়া প্রার্থীকে রিটার্নের একটি অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে।

সকল প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক

কমিশন স্পষ্ট করেছে, নির্বাচনে বিজয়ী বা পরাজিত— সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকেই এই রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এমনকি যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন অথবা যাদের কোনো প্রকার ব্যয় হয়নি, তাদেরও নির্ধারিত ফরমে শূন্য ব্যয় উল্লেখ করে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

শাস্তির বিধান

শাস্তির বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৪ গ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করা বা আদেশ লঙ্ঘন করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধে দোষী ব্যক্তি অনধিক ৭ বছর এবং অন্যূন ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্ব

রিটার্নিং অফিসারদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নির্বাচনি ব্যয় সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার সরাসরি মামলা দায়ের করবেন। এ ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের দাখিলকৃত ব্যয় বিবরণী ও দলিলপত্র রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। জনসাধারণ নির্ধারিত ১০০ টাকা ফি প্রদান সাপেক্ষে, এসব দলিল পরিদর্শন করতে পারবেন এবং প্রতি পৃষ্ঠা ১০০ টাকা ফি দিয়ে এর সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

ফরম বিতরণ ও মনিটরিং

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সকল প্রয়োজনীয় ফরম (২২, ২২ক, ২২খ, ২২গ) রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রার্থীর নিকট এসব ফরমের প্রাপ্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া গেজেট প্রকাশের ৩০ দিন পর সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাব দাখিল করেছেন কিনা এবং যারা ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- তা কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।