পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপির তীব্র লড়াই, জরিপে অনিশ্চয়তা
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপি লড়াই, জরিপে অনিশ্চয়তা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপির তীব্র লড়াই, জরিপে অনিশ্চয়তা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দৃশ্যপট অত্যন্ত উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে মূল লড়াই চললেও, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবার একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ব্যাপক ধরপাকড়, পুলিশ ও প্রশাসনে ঢালাও বদলি, জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং দুই শিবিরের মারদাঙ্গা ভাষণে রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থির হয়ে পড়েছে।

নির্বাচনী অনিশ্চয়তা ও জরিপের ফলাফল

কলকাতা শহরের দীর্ঘস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যেও এবারের নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপির ঘোর আশাবাদীরা ছাড়া কেউই বুক ঠুকে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারছেন না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদারকি করা হচ্ছে, যা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধু বিজেপি নয়, নির্বাচন কমিশনকেও হারাতে হবে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতাসীন হতে গেলে।

এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আগামী বুধবার প্রথম দফার ভোটের আগে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে অভয় দিতে রাজ্য জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে গোটা রাজ্যে ২ হাজার ৫৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী অবস্থান করছে, যা প্রায় তিন লাখ জওয়ানের সমতুল্য। সাঁজোয়া গাড়ি হাঁকিয়ে ধীরগতিতে পথপরিক্রমার মধ্য দিয়ে তারা নির্বাচনী শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভিন্ন জরিপের ফলাফল ও বিশ্লেষণ

বিভিন্ন জরিপের ফলাফলেও এই অনিশ্চিত আবহের চিত্র স্পষ্ট। ভোট গ্রহণের দুই দিন আগেও কেউ নিশ্চিত নয় কে জিতবে কে হারবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপ দলের কোলাজে দেখা গেছে, কারও সমীক্ষায় তৃণমূল এগিয়ে, কারও মতে বিজেপি, আবার কেউ দুই শিবিরকেই গায়ে গায়ে রেখেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • সি ভোটার, টাইমস নাউ ও এবিপি জরিপ অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫৮, বিজেপি ১১৫, সিপিএম–কংগ্রেস ১৯ আসন পেতে পারে।
  • পি মার্ক জরিপে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫৮, বিজেপি ১২০, সিপিএম–কংগ্রেস ১৪ আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
  • ইন্ডিয়া টুডে–অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া জরিপে বিজেপি ১৪৭, তৃণমূল কংগ্রেস ১৪৩, সিপিএম–কংগ্রেস মাত্র ২ আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • ইটিজি রিসার্চ সংস্থার মতে, তৃণমূল কংগ্রেস ১৬৯, বিজেপি ১১০ আসন পেতে পারে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ইতিবাচক।
  • ইন্ডিয়া টিভি গোষ্ঠীর সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপি ১৯২, তৃণমূল কংগ্রেস ৮৮, সিপিএম+ ১২টি আসন পেতে পারে, যা একটি দুঃসাহসী পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পোল অব পোলস জরিপে গড় করে ত্রিশঙ্কু বা ঝুলন্ত বিধানসভার ছবি এঁকেছে, যেখানে তৃণমূল ১৪১, বিজেপি ১৩৮, সিপিএম+ ১৩ আসন পেতে পারে। ফল এমন হলে, সাম্প্রতিক সময়ে চালু হওয়া একটি রসিকতা প্রাধান্য পেতে পারে: ‘ভোটে যারাই জিতুক, সরকার গড়বে বিজেপি।’ অমিত শাহ এই প্রবাদকে বারবার সত্য প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অমিত শাহ প্রতিটি জনসভায় নিয়ম করে বলছেন, ভোটে যারা গুন্ডামি করবে, বিজেপি তাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করবে। বিজেপি সরকার গড়লে সেই দাওয়াইয়ের হাত থেকে প্রতিপক্ষের কেউই কি রক্ষা পাবে, তা একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। ভোটের দুই দিন আগেও মহা সাসপেন্সের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ছেয়ে রেখেছে অগুনতি ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’।

নির্বাচনের প্রথম দফা আগামী বুধবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬ জেলার ১৫২ আসনে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগণা, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলার ১৪২ আসনে নির্ধারিত রয়েছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে যাবতীয় আগ্রহ, অপেক্ষা, উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটবে।