মীরসরাইয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় চাচা নিহত, ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে খৈয়াছরা ইউনিয়নের মধ্যম আমবাড়িয়া এলাকায় সালিশি বৈঠকের সময় এ হামলা ঘটে। নিহত শফিউল আলম তার প্রতিবন্ধী ভাতিজাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজে আক্রান্ত হন। এ সময় আরও ১০ জন প্রবীণ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত শফিউল আলমের পুত্র আরাফাত শিফাত (২৬) জানান, দুদিন আগে তার প্রতিবন্ধী চাচাতো ভাই ফকির আহমদ (২৪) স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্য রিংকু ও রিফাতের হাতে বেদম প্রহারের শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী সালিশের আহ্বান জানালে, জুমার নামাজ শেষে শুক্রবার দুপুর ২টার পর সালিশি বৈঠক বসে।
বৈঠক চলাকালে হঠাৎ করেই রিপন, রিংকু ও রিজভী নামের কিশোর গ্যাং সদস্যরা লাঠিসোটা ও লম্বা ছুরি নিয়ে ফকিরের ওপর আবারো হামলা চালাতে যায়। এ সময় শফিউল আলম ভাতিজাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকে এবং অন্যান্য প্রবীণদের পিটিয়ে আহত করে। শফিউল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
আহত নুরুল আজিম (৫২) বলেন, "বৃহস্পতিবার বিকালে ফকিরকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে আমরা সালিশ ডেকেছিলাম। কিন্তু সালিশেই তারা আবার হামলা চালালো, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।" নিহতের ছেলে আরাফাত হোসেন অভিযোগ করেন, রিংকু, রিফাত ও রিজভী নামের কিশোররা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা নিয়মিত মাদক সেবন করে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি তার বাবার হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার নিহতের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বলেন, "ওই বৃদ্ধের শরীরে একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।"
মীরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেন, "ঘটনার পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।" তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সম্প্রদায়িক উদ্বেগ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক মাস ধরে এই কিশোর গ্যাং সদস্যরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে পারছেন না। তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর অপরাধের ভয়াবহতা এবং গ্রামীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



