জ্বালানি সংকটে পুলিশের জরুরি কাজ ব্যাহত, পাম্পে পৃথক লাইনের দাবি
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে রাজপথের দীর্ঘ সারিতে ব্যাহত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি কার্যক্রম। জ্বালানি পাম্পে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে বিঘ্নিত হচ্ছে টহল, অপরাধ দমন ও জরুরি অভিযান। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইন বা বিশেষ বুথের মাধ্যমে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
আইজিপির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন
শুক্রবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বরাবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ভাবলু। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ অপরাধ দমন, আসামি গ্রেফতার, জরুরি অভিযান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ভিআইপি নিরাপত্তার মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে দিয়ে আসছে।
কর্মঘণ্টা নষ্ট ও জনসেবা বাধাগ্রস্ত
সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন কিংবা রিকুইজিশন করা গাড়ি ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে পাম্পগুলোতে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় পুলিশের মূল্যবান কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে অপরাধীর নাগাল পেতে দেরি হওয়া কিংবা দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে না পারার মতো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটছে, যা সরাসরি জনসেবাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ভুল বোঝাবুঝি ও জরিমানার ঝুঁকি
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন চিঠিতে আরও বলা হয়, অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে লাইনের বাইরে গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে চাইলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা জনঅসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জরিমানার মতো দুঃখজনক পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনেককে। এ ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সারা দেশের পাম্পে বিশেষ ব্যবস্থার অনুরোধ
চিঠিতে জনস্বার্থে এবং জরুরি সেবার গতি বজায় রাখতে সারা দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি জ্বালানি পাম্পে পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হলে জনসেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
প্রস্তাব বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গতি আসবে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, যা সামগ্রিক জনসুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। এই পদক্ষেপ জ্বালানি সংকটের মধ্যেও পুলিশের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



