খাগড়াছড়িতে নেতা হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি প্রধান সড়কে শুক্রবার সকাল থেকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম এর নেতা-কর্মীরা। এই অবরোধের ফলে সড়কটিতে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ও প্রতিবাদ
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে খাগড়াছড়ির কুদুকছড়ি উপরপাড়া গ্রামে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ধর্মশিং চাকমা (ধর্মমনি) একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। এ সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে ধর্মশিং চাকমার দুই বোন ভাগ্যসোনা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সংগঠনটি ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে অবরোধের ডাক দেয়। তারা কুদুকছড়ি এলাকাসহ ‘১৭ মাইল’ এলাকায় গাছ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। সংগঠনটি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) কে দায়ী করেছে, যা পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন।
অবরোধের প্রভাব ও কর্তৃপক্ষের অবস্থান
অবরোধের কারণে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মির্জা জহির জানান, কুদুকছড়িতে হত্যাকাণ্ডের জেরে সড়ক অবরোধের কারণে মহালছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই অবরোধের প্রভাব যাতে অন্য এলাকায় না ছড়িয়ে পড়ে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
যাত্রীদের ভোগান্তি
সড়ক অবরোধের কারণে স্থানীয় যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক যাত্রী তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান কামনা করছেন।
- সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ।
- যাত্রীদের জন্য ভোগান্তি ও অসুবিধা সৃষ্টি।
- পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার বিষয়।



