ভুয়া ডিবি পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা প্রতারণার মূল হোতা গ্রেফতার
ভুয়া ডিবি পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা প্রতারণার মূল হোতা গ্রেফতার

ভুয়া ডিবি পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা প্রতারণার মূল হোতা গ্রেফতার

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. জাবেদ হোসেন (৫১)। বুধবার বিকালে রাজধানীর জনসন রোড এলাকা থেকে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি চৌকস দল তাকে গ্রেফতার করে।

প্রতারণার বিস্তারিত ঘটনা

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন মোল্লা বর্তমানে একটি মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত ৫ এপ্রিল সকালে তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক রফির মোবাইলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে নিজেকে ডিবি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রতারক চক্র জানায়, তার স্বামীকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হচ্ছে। তাকে রিমান্ড থেকে বাঁচাতে এবং মুক্তি দিতে হলে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য অত্যন্ত সুকৌশলে তার স্বামীর কণ্ঠস্বর নকল করে ফোনে কথা বলিয়ে দেয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বামীর আর্তনাদ শুনে বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তড়িঘড়ি করে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টাকা পাঠানো ও প্রতারণার শিকার হওয়া

প্রতারকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী প্রথমে মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ের সামনে যান। এরপর প্রতারকদের কথা মতো এসএ পরিবহণের যাত্রাবাড়ী শাখায় ‘লুৎফর জামান’ নামে ওই ১০ লাখ টাকা মানি পার্সেল করেন। টাকা পাঠানোর পর তাকে বলা হয় কাশিমপুর কারাগারে গেলেই তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পথিমধ্যে উত্তরা পৌঁছাতেই প্রতারকদের ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া

প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী গোয়েন্দা বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বুধবার বিকাল ৪টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন জনসন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতা জাবেদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এনএম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত জাবেদের বিরুদ্ধে ডিএমপি পল্টন থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতার কার্যক্রম নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ জাগিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এমন প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং যেকোনো সন্দেহজনক ফোনকল বা দাবির ক্ষেত্রে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।