সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ
সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তরের জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের একটি প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনের ১৪তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উন্নয়ন পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ এবং সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণের উন্নয়নসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা এবং বিমান বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ‘ম্যাড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও সরকারের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা স্মরণ করে বলেন, সেখানে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, দ্রুতগামী, স্বয়ংসম্পূর্ণ, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্র সংযোজনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিমান বাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের কথাও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও, প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, কল্যাণ, অবসরোত্তর মর্যাদা এবং ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেরশন ওয়ান পেনশনের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিমুখী ও জনআস্থাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌযান ও সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী বিভিন্ন বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত স্টাফ পর্যায়ে বৈঠক, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হচ্ছে।
সরকারের এই পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।



