রাজশাহীতে মোটরসাইকেল শব্দ নিয়ে সংঘর্ষ, বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন, আহত ৭
রাজশাহীতে মোটরসাইকেল শব্দে সংঘর্ষ, আহত ৭

রাজশাহীতে মোটরসাইকেল শব্দ নিয়ে তীব্র সংঘর্ষ, বাড়িতে ভাঙচুর ও বাইকে আগুন

রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে একদল তরুণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে স্থানীয় পাঁচজন ও হামলাকারী দুইজন রয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে নগরীর কেষ্টগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈচুয়াতৈল এলাকার অনিক নামের এক তরুণ কেষ্টগঞ্জ বাজার এলাকায় উচ্চ শব্দ করে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে অনিক তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ফিরে এসে স্থানীয়দের ওপর হামলা চালায় এবং একটি বাড়িতে ভাঙচুর করে।

এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা রাগান্বিত হয়ে অনিক ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। সংঘর্ষে অনিকের দুই সহযোগীসহ স্থানীয় পাঁচজন আহত হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহতদের তালিকা ও পুলিশি তৎপরতা

আহত স্থানীয় ব্যক্তিরা হলেন, কেষ্টগঞ্জ এলাকার মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে কামাল উদ্দিন (৬০) ও মুস্তাকিম হোসেন (৪০), রানা মিয়ার ছেলে রাজা আলম (২২), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে জাহিদ হোসেন (২৩) এবং সিয়াম হোসেন (২০)। অন্যদিকে, আহত দুই হামলাকারী হলেন, শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকার মাহফুজের ছেলে রেদওয়ান (২২) এবং চন্দ্রিমা থানার হাজির মোড় এলাকার নাজমুল হোসেনের ছেলে নাহিদ হোসেন (২৬)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করে। আহতরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে বাইকচালক অনিকের আহত দুই বন্ধু পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, পলাতক অনিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালানো একটি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করছে। তারা পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।