ঢাকার সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট কার্যকর, লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট কার্যকর করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সিগন্যাল অমান্য করা, উলটো পথে চলাচল কিংবা নির্ধারিত স্থান ছাড়া পারাপার করলে ডিজিটাল মামলাসহ জরিমানা ও কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে বলে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করেছে ডিএমপি। গতকাল রবিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিগন্যাল লাইট স্থাপনের এলাকাসমূহ
গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, কার্যকর ও আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে যান-চলাচলের শৃঙ্খলা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোকে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ক্রসিংগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে।
স্থায়ীভাবে সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা এলাকাগুলো হলো:
- হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং
- বাংলামোটর ক্রসিং
- হোটেল সোনারগাঁও ক্রসিং
- ফার্মগেট পুলিশ বক্স ক্রসিং
- বিজয় সরণি ক্রসিং
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ক্রসিং
- জাহাঙ্গীর গেট ক্রসিং
- গুলশান-২ ক্রসিং
- গুলশান-১ ক্রসিং
এছাড়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পশ্চিম প্রান্ত (আড়ং ক্রসিং), খেজুর বাগান ক্রসিং, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ক্রসিং, মাজার রোড ক্রসিং, আবুল হোটেল ক্রসিং, মৌচাক ক্রসিং, রায় সাহেব বাজার মোড় ক্রসিং ও লাভরোড ক্রসিংয়ে অস্থায়ীভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আরও ছয়টি ক্রসিংয়ে অর্থাৎ হাইকোর্ট ক্রসিং, কদম ফোয়ারা ক্রসিং, মৎস্য ভবন ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, পুলিশ ভবন ক্রসিং ও শাহবাগ ক্রসিংয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে, যা শিগগিরই চালু হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়েও সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হবে।
পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা
পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের উদ্দেশ্যে ডিএমপি রাজধানীর পুরাতন রমনা থানা ক্রসিং (শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি), রমনা পার্কের অরুনিমা গেটের সম্মুখে (হেয়ার রোড), মিরপুর কলেজ/ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সম্মুখে (মিরপুর রোড), গাবতলী পুলিশ বক্সের সম্মুখে (আমিনবাজার ব্রিজের পূর্বে), রামপুরা ট্রাফিক পুলিশ বক্স ক্রসিং (প্রগতি সরণি) ও কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানির সম্মুখে (শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি) সড়কের জেব্রা ক্রসিংয়ে সেফ পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে।
যানবাহন চালকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে যানবাহন চালকদের প্রতি নিচের নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে:
- ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট মেনে চলা: রাস্তার প্রতিটি ক্রসিংয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট (লাল-সবুজ-হলুদ) যথাযথভাবে অনুসরণ করুন।
- লাল বাতি লঙ্ঘন না করা: সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলাকালীন কোনোভাবেই গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন না। হলুদ বাতি জ্বললে গাড়ির গতি কমিয়ে থামুন অথবা চলাচলের জন্য প্রস্তুত হোন।
- স্টপ লাইন মেনে চলা: লাল বাতির সিগন্যালে থামার সময় অবশ্যই নির্ধারিত স্টপ লাইন বা জেব্রা ক্রসিংয়ের পূর্বে গাড়ি থামান।
- উলটো পথে গাড়ি না চালানো: কোনো অবস্থাতেই বিশেষ করে ক্রসিংগুলোতে উলটো পথে যানবাহন চালাবেন না।
- বাম লেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি: সোজা বা ডানে যাবে এমন যানবাহন কোনো অবস্থাতেই ক্রসিং সংলগ্ন বাম লেনে দাঁড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না।
- মোড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা: রাস্তার ক্রসিং বা মোড়গুলোতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করবেন না অথবা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না।
পথচারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হবেন। পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট আছে এমন স্থানে শুধুমাত্র সবুজ বাতিতে রাস্তা পার হবেন। ডিএমপি জানায়, পথচারীরা যদি জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজ ছাড়া যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হন অথবা পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইটের লাল বাতি অমান্য করেন, তবে ঘটনাস্থলেই বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারাদণ্ড বা জরিমানা করা হবে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ভিডিও প্রসিকিউশন দায়ের করা হবে।
সিসি ক্যামেরা ও ডিজিটাল মামলা
ডিএমপি আরো জানায়, সিগন্যাল বাতির পোলসমূহে উন্নত মানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলোর মাধ্যমে লাল বাতি অমান্য, উলটো পথে গাড়ি চালানো, ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বাম লেন আটকে রাখা এবং অবৈধভাবে পথচারী পারাপারের বিরুদ্ধে শিগগিরই ডিজিটাল মামলা দায়ের শুরু হবে।
সড়ক পরিবহন আইনের কঠোর বিধান
উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, কোনো পথচারী বা সড়ক ব্যবহারকারী ট্রাফিক আইন বা সিগন্যাল অমান্য করলে কিংবা নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পারাপার করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত স্থান ব্যতীত যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা করলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা এবং চালকের ১ পয়েন্ট কর্তন করা হবে। একইভাবে উলটো পথে গাড়ি চালানো বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য হবে।



