টেকনাফে ২৫ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, মাদক কারবারিরা নদী সাঁতরে পালালো
টেকনাফে ২৫ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, মাদক কারবারিরা পালালো

টেকনাফে রেকর্ড পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার, মাদক কারবারিরা নাফ নদী সাঁতরে পালালো

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির একটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উখিয়া-৬৪ বিজিবি বাহিনী শনিবার ভোররাতে নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে।

২৫ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার

উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। উখিয়া-৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোররাত আনুমানিক ৩টায় রাডারের মাধ্যমে নাফ নদী সংলগ্ন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের দিকে আসার সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, চোরাকারবারির একটি দল নাফ নদী সাঁতরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজিবির কৌশলগত অ্যাম্বুশ

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হ্নীলা বিওপির বিশেষ টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে রেড়িবাঁধের ওপর কৌশলগতভাবে দ্রুত অ্যাম্বুশ স্থাপন করে। একপর্যায়ে চোরাকারবারির দল বিজিবির ওব্রাং পোস্ট সংলগ্ন নাফ নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা সঙ্গে থাকা মাদকদ্রব্য ফেলে দিয়ে নাফ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৩টি বড় পোটলা ইয়াবা উদ্ধার করেন। পোটলাগুলো খুলে মোট ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন

উদ্ধারকৃত মাদকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এই চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়সহ বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রামু সেক্টরেও ইয়াবা উদ্ধার

এছাড়াও শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টায় রামু সেক্টরের আওতাধীন রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকা থেকে আরও দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। রামু সেক্টর আজ ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের সর্বমোট ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে যা একদিনে বিজিবির সর্বোচ্চ ইয়াবা আটকের রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই অভিযানে বিজিবির সদস্যরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। রাডার ও থার্মাল ইমেজিং ডিভাইসের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির এই সফল অভিযান প্রশংসনীয় হলেও মাদক কারবারিদের আটক করতে না পারা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। নাফ নদী পাড়ি দিয়ে সহজেই মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ মাদক চোরাচালানকারীদের জন্য একটি নিরাপদ পথ তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।