খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিজিবির অভিযানে ১ হাজার ৪০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি অভিযানে ১ হাজার ৪০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি। আজ শনিবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবির পক্ষ থেকে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযানের সময় ও স্থান
গতকাল শুক্রবার বিকেলে পানছড়ি উপজেলার দুর্গম বৌদ্ধমনিপাড়ার কাঁঠালতলি এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে। বিজিবি জানায়, গুলির একটি চালানের বিষয়ে গোপনে খবর পাওয়ার পরেই তারা এই অভিযান শুরু করে। পানছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩ বিজিবি) অধীন বৌদ্ধমনিপাড়া সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েব সুবেদার মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি টহল দল কাঁঠালতলি এলাকায় অবস্থান নেয়।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সীমান্ত সড়ক দিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে সন্দেহভাজন চার ব্যক্তিকে আসতে দেখে বিজিবির টহল দলটি তাদের থামার সংকেত দেয়। তবে সংকেত পেয়ে ওই চার ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেল ও একটি থলে ফেলে পাহাড়ি এলাকা বেয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের ফেলে যাওয়া থলে তল্লাশি করে ১ হাজার ৪০০ রাউন্ড গুলি পায় বিজিবির টহল দল।
সন্ত্রাসীদের ঘেরাওয়ের চেষ্টা
বিজিবির দাবি, উদ্ধার হওয়া গুলি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ফেরার সময় সন্ত্রাসীদের একটি দল বিজিবি সদস্যদের ঘেরাও করার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত বিষয়টি জানতে পারে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তর। সেখান থেকে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এস এম ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে অতিরিক্ত দুটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর সন্ত্রাসীরা সরে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিজিবির প্রতিক্রিয়া
পানছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম বলেন, "সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টহলের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে এবং বিজিবির সক্রিয় ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এই অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



