বিএজিবির জোরদার অভিযান: জ্বালানি-তেল পাচার রোধে বিশেষ নজরদারি, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি
বিএজিবির জোরদার অভিযান: জ্বালানি-তেল পাচার রোধে বিশেষ নজরদারি

বিএজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে জোরদার অভিযান: জ্বালানি ও ভোজ্যতেল পাচার রোধে বিশেষ নজরদারি

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএজিবি) জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অভিযান তীব্র করেছে। পহেলা বৈশাখ ও ঈদ-উল-আযহা সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বিএজিবির এই অঞ্চলটি কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলা জুড়ে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এবং সুন্দরবনের জলপথ কভার করে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পেট্রোলিং কার্যক্রম

দুইটি সেক্টর, সাতটি ব্যাটালিয়ন এবং ১১৬টি সীমান্ত চৌকি (বিওপি) এর মাধ্যমে এই বিশাল অঞ্চলটি সুরক্ষিত করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৪৬৪টি পেট্রোলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে পাচার রোধে। বিশেষ নজরদারি চলছে বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহরিয়ার রাজিব, নীল দুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিএজিবি) কমান্ডিং অফিসার, শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২২টি জ্বালানি স্টেশনে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২,৩২৫টি পেট্রোলিং এবং ৮৯৯টি বিশেষ চেকপয়েন্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও যৌথ অভিযান

স্থানীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে ৮৬৮টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও কাস্টমসের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় ৩১টি টাস্কফোর্স অপারেশন পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানের ফলে অবৈধ তেল জব্দ করা হয়েছে এবং এক ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ঈদ-উল-আযহার প্রস্তুতি ও গবাদিপশু পাচার রোধ

ঈদ-উল-আযহা সামনে রেখে বিএজিবি গবাদিপশু ও অবৈধ চামড়া পাচার রোধে সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে। অতিরিক্ত পেট্রোলিং, চেকপয়েন্ট এবং কঠোর নজরদারি চালু রাখার পাশাপাশি গণসচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের সাফল্য

দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে বিএজিবি ৮৮ ব্যক্তিকে আটক করেছে এবং প্রায় ৫৮.৯৩ কোটি টাকা মূল্যের পাচারকৃত পণ্য জব্দ করেছে। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১.২৮৯১৫ কেজি সোনা, ১৫৫.৭৬ গ্রাম হীরা, ১০.৫ কেজি রূপা, ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি।

২০২৫ সালে ৪২০ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয় এবং ৩৭৭.৪৬ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানের ফলাফল

মাদকবিরোধী অভিযানে বিএজিবি ২০২৬ সালের শুরুতে ২২.১৩ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২,৩২০ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২২ কেজি গাঁজা, ২৬,২৭১ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪,১০০ বোতলের বেশি ফেনসিডিল।

২০২৫ সালে জব্দকৃত মাদকের মধ্যে ছিল ৩০,৮০০ বোতল মদ, ৩৭ কেজি হেরোইন, ১,৬১,০০০ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৯,০০০ বোতল ফেনসিডিল এবং ২,০০০ কেজির বেশি গাঁজা, যার মূল্য ১৯.৫২ কোটি টাকা।