বান্দরবানে বিজিবির অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও রাসায়নিক উদ্ধার
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার টারগুপাড়া ও বাইশফাঁড়ী সীমান্তে দুটি পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, আইইডি এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেছে। রামু সেক্টরের ১১ বিজিবি ও ৩৪ বিজিবি এই অভিযানগুলো পরিচালনা করে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় মাইন ও আইইডি উদ্ধার
শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবিরের সই করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৯ এপ্রিল দুপুরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৫৩ ও ৫৪ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী ছায়াপাড়া এলাকায় ৪-৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখে বিজিবি টহলদল চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় চোরাকারবারিরা কয়েকটি ব্যাগ ফেলে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ওই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ০৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ০৫টি সম্ভাব্য আইইডি (বিস্ফোরক ডিভাইস), ০১টি মেটাল ডিটেক্টর, ০১টি সোলার প্যানেল, মোবাইল ফোন এবং শুকনা খাবারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিমকে ডাকার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির জানান, সীমান্ত এলাকায় আইইডি ও মাইন স্থাপনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাইশফাঁড়ী এলাকায় দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ জব্দ
একই দিনে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ০৩ কেজি দাহ্য পাউডার, ০৩ কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), ০৩ রোল নাইলন কাপড় এবং ০৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত এসব রাসায়নিক পদার্থ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজিবি সূত্র জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনও ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই অভিযানগুলো বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।



