মুন্সীগঞ্জে ঘোড়া জবাই চক্রের প্রধান রাজিব শিকদার আটক, জীবিত ঘোড়া উদ্ধার
মুন্সীগঞ্জে ঘোড়া জবাই চক্রের প্রধান আটক, জীবিত ঘোড়া উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জে ঘোড়া জবাই চক্রের প্রধান অভিযুক্ত আটক, জীবিত ঘোড়া উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে জবাই করা কয়েকটি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধারের ঘটনায় অবৈধ মাংস বিক্রেতা চক্রের প্রধান অভিযুক্ত রাজিব শিকদারকে আটক করেছে গজারিয়া থানা পুলিশ। সর্বশেষ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলার গজারিয়া আনারপুরা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজিব শিকদারকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

আটক অভিযুক্তের পরিচয় ও পূর্বের গ্রেপ্তার

আটক করা রাজিব শিকদার (৩৬) উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আনারপুরা গ্রামের মৃত বাবুল শিকদারের ছেলে। এর আগে বৃহস্পতিবার গজারিয়া ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও চার সদস্যকে আটক করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মাদারীপুর জেলার কালকিনির রুবেল (৩৯), নওগাঁর সৌরভ (২১), গাজীপুরের টঙ্গীর সোহেল গাজী (২১) ও একই এলাকার ইয়াসিন আরাফাত (২১)।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

অপরাধীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সেখানে মোট দশটি ঘোড়া ছিল যার মধ্যে নয়টি জবাই করা হয়েছিল এবং একটি অসুস্থ ঘোড়া জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল ভোরে আনারপুরা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে জবাই করা কয়েকটি ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা। সে সময় প্রধান অভিযুক্ত রাজিব ও তিতাসসহ কয়েকজন পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পর চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে থাকলেও রাজিব এলাকায় ফিরে এসে আত্মগোপন করে। শুক্রবার বিকেলে আনারপুরা বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ তাকে সফলভাবে আটক করে। সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি

প্রধান অভিযুক্ত রাজিবের আটকের বিষয়ে গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, "এই চক্রটি রাজিব ও তিতাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। রাজিব আটক হয়েছে এখন তিতাসকে আটকের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।" রাজিবসহ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন আটক হয়েছে, যা এই অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, এই ধরনের অবৈধ মাংস বিক্রির ঘটনা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও সফল অভিযান এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।