কুমিল্লার চান্দিনায় শিশু অপহরণ ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই: মায়ের বান্ধবী পরিচয়ে ধোঁকা
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক শিশুকে বিদ্যালয় ছুটির পর মায়ের বান্ধবী পরিচয়ে ধোঁকা দিয়ে তুলে নিয়ে তার স্বর্ণালংকার ছিনতাই করা হয়েছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ছায়কোট এলাকায় ঘটে, যেখানে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতকে অপহরণ করে পরে তার কানের স্বর্ণের দুল ও পায়ের রূপার নূপুর খুলে নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ: কীভাবে অপহরণ করা হলো
শিশু জান্নাত ছায়কোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বিদ্যালয় ছুটির পর সে তার তিন সহপাঠীর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ একটি সিএনজি অটোরিকশা তাদের কাছে এসে দাঁড়ায়। বোরকাপরা এক নারী সিএনজি থেকে জান্নাতকে ডেকে বলেন, ‘বাড়ি যাবে আসো? আমি তোমার আম্মার বান্ধবী। তোমাদের বাড়িতেই যাচ্ছি’।
জান্নাত প্রথমে সিএনজিতে উঠতে রাজি না হলে, ওই নারী হাতের একটি ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, ‘তোমার জন্য দেখ কতকিছু কিনে এনেছি। এসো আম্মু’। এই প্রলোভনে পড়ে জান্নাত সিএনজিতে উঠে পড়ে। সহপাঠীরা সবাই বাড়ি ফিরলেও জান্নাত ফেরেনি, যা পরিবারকে দিশেহারা করে তোলে।
ছিনতাই ও উদ্ধার: স্থানীয়দের ভূমিকা
অপহরণকারী চক্র জান্নাতকে ছায়কোট থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের বরকইট বাজারসংলগ্ন একটি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার কানের স্বর্ণের দুল ও পায়ের রূপার নূপুর খুলে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সারওয়ার সোহেল জানান, মেয়েটিকে রাস্তার পাশে কান্না করতে দেখে স্থানীয়রা তার সঙ্গে কথা বলে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে নিরাপদে হস্তান্তর করে।
জান্নাতের নানা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জান্নাতের সহপাঠীদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি। বিকাল ৩টার দিকে বরকইট এলাকা থেকে ফোন আসে যে আমার নাতনি সেখানে আছে। আমরা দ্রুত সেখানে ছুটে গিয়ে তাকে পাই’।
দীর্ঘদিনের অপকর্ম: পুলিশের বক্তব্য
চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, এই চক্রটি কয়েক মাস ধরে আশপাশের এলাকায় শিশুদের অপহরণ করে স্বর্ণালংকার ছিনতাই করছে। তিনি বলেন, ‘চক্রটি কয়েক মাস যাবত আশপাশের এলাকায় অপকর্ম করে চলছে। তদন্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব’।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে শিশুদের লক্ষ্য করে অনুরূপ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
জান্নাতের পরিবার এই ঘটনায় ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যালয় ছুটির সময় শিশুদের একা না রাখা এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা না বলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এই ঘটনা শিশু নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



