নবাবগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবক হত্যা, ইউপি সদস্য আটক
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার আগলা ইউনিয়নের ছাতিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি কামরুল ইসলাম মিঠুন (৩৪), যিনি স্থানীয় কিম্মত আলীর ছেলে হিসেবে পরিচিত। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আগলা ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. নান্নুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
ঘটনার পটভূমি ও পূর্ব শত্রুতা
নিহত মিঠুনের বড় ভাই আকতার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫/১৬ দিন আগে তাদের পালের গরু স্থানীয় হান্নান ও বোরহান নামক ব্যক্তিদের জমির ঘাস খেয়ে ফেলেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি সংঘটিত হয় এবং পরবর্তীতে হান্নান ও বোরহান মিঠুনের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। আকতার হোসেন দাবি করেন, এই পূর্ব শত্রুতার জেরেই ইউপি সদস্য মো. নান্নুর নেতৃত্বে হান্নান, বোরহান এবং তাদের সহযোগিরা মিঠুনকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
হত্যার বিস্তারিত বিবরণ
নিহতের বোন ইয়াসমিনের মতে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় বিপ্লব নামে আরেক যুবক মিঠুনকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা টেঁটা ও যুতি দিয়ে মিঠুনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় তাকে চূড়াইন বিলে ফেলে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের খবর পাওয়ার পর মিঠুনকে উদ্ধার করে প্রথমে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করার পথে মৃত্যু হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ট হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
নবাবগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্নুকে আটক করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিহতের পরিবার একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে চলেছে এবং অভিযোগ পাওয়ার পরই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। পূর্ব শত্রুতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের জের ধরে এমন হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।



