বিএসবি'র অভিযানে নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার লিটার ভেজাল সয়াবিন তেল উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জে বিএসবির অভিযানে ২ হাজার লিটার ভেজাল তেল উদ্ধার

ভোজ্যতেল বাজার নিয়ন্ত্রণে বিজিবির ব্যাপক অভিযান

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সারা দেশে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, অসাধু মজুতদার, কালোবাজারি ও চোরাচালান চক্রের তৎপরতা রোধ এবং ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

নারায়ণগঞ্জে অভিযানে বড় সাফল্য

এই অভিযানের অংশ হিসেবে বিজিবির নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি যৌথ দল বৃহস্পতিবার ভোর ১টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো কাজিপাড়া মোড়ে অভিযান চালায়। অভিযানে রাজু ও খোরশেদ নামের দুই ব্যক্তির গুদাম থেকে নয়টি ড্রামে মজুতকৃত প্রায় ২ হাজার লিটার ভেজাল সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।

কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজার থেকে ভোজ্যতেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুত করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো বোতলজাত করে 'বন্ধন প্লাস' ও 'বিসমিল্লাহ' স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকারের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গত তিন মাসের উল্লেখযোগ্য উদ্ধার

বিজিবি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ফেনী, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫,৪২৫ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। গত বছর ১৩,১৭৭ লিটার এবং ২০২৫ সালে ৩০,০৯২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুত ও চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত ও বিশেষ পেট্রোল বাড়ানো হয়েছে। চিহ্নিত চোরাচালানকারী ও পাচারের রুট সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সন্দেহভাজন যানবাহন, নৌযান ও সীমান্তসংলগ্ন গুদামে তল্লাশি অভিযানও তীব্র করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও কাস্টমস বিভাগের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স অপারেশন চালিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সমন্বিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতা

প্রয়োজনে সীমান্ত থেকে ৮ কিলোমিটারের বাইরেও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সাথে বিজিবি সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভোজ্যতেল চোরাচালানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোজ্যতেলের সরবরাহ সুচারুভাবে নিশ্চিত করতে ও ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা হবে। ভবিষ্যতেও অবৈধ মজুত, চোরাচালান ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বাহিনী।