নড়াইলে মায়ের স্বীকারোক্তি: নিজ সন্তানকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা
নড়াইলে মায়ের স্বীকারোক্তি: সন্তান হত্যার ঘটনা

নড়াইলে মায়ের হাতে শিশু হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা

নড়াইল সদর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজ সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মা আরিফা বেগম (২১)। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি তার সাড়ে তিন মাসের শিশু তাবাসসুমকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরে নড়াইল সদর আমলি আদালতের বিচারক মারুফ হাসান তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

আদালতের আদেশ ও কারাগারে প্রেরণ

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার পর বিচারক মারুফ হাসান আরিফা বেগমকে নড়াইল জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় তাকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। নিহত শিশু তাবাসসুম উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী চাঁন মানিক মোল্লার মেয়ে হিসেবে পরিচিত।

বিবাহ ও পারিবারিক পটভূমি

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে আলুকদিয়া গ্রামের খায়রুল বিশ্বাসের মেয়ে আরিফাকে উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী চাঁন মানিক মোল্লা বিয়ে করেন। এই বিবাহের পর থেকে আরিফা বেগম পরিবারে বসবাস করছিলেন। তবে শিশু তাবাসসুমের জন্মের পর থেকে পরিবারে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার কারণ ও ঘটনার বিবরণ

আরিফা বেগমের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সাড়ে তিন মাসের তাবাসসুম জন্মের পর থেকেই অতিরিক্ত কান্নাকাটি করতো। শিশুটিকে সামলানোর জন্য মা আরিফা বাদে পরিবারে আর কেউ সহায়তা করছিল না। এই অবস্থায় শিশুটির যত্ন নিতে গিয়ে আরিফা বেগম শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তার জবানবন্দি অনুযায়ী, এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করে এবং পুলিশকে সতর্ক করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

এর আগে নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলুকদিয়া গ্রামে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শিশু তাবাসসুমকে তার মা হত্যা করেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরিফা বেগমকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরিফা বেগমের স্বীকারোক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিশু সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। পুলিশ ও আদালত আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে এবং আরিফা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।