হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫০০ গ্রাম স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ব্যক্তি আটক
বিমানবন্দরে ৫০০ গ্রাম স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক

হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্য আটক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়, যেখানে মফিদুল ইসলাম (৪৩) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটকের ঘটনা ও উদ্ধারকৃত সম্পদ

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরের আগমনী ক্যানোপি-২-এর খোলা কার পার্কিং এলাকা থেকে মফিদুল ইসলাম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। তিনি উমরাহ্‌ হজ কাফেলার মোয়াল্লেম হিসেবে বৃহস্পতিবার এসভি৮০৮ ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে আনুমানিক সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে অবতরণ করেছিলেন।

আটককৃত ব্যক্তিকে এপিবিএন অফিসে নিয়ে গিয়ে শরীর তল্লাশি করা হলে তার হাতব্যাগ থেকে নিম্নলিখিত সম্পদ উদ্ধার করা হয়:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ৪৯৯.১ গ্রাম স্বর্ণ (২১ ক্যারেট মানের), যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৩,৮৪,৮৮০ টাকা
  • ৯,০০০ ইউএস ডলার
  • ৮,৫০১ সৌদি রিয়াল
  • ১,৮০০ মিশরীয় পাউন্ড
  • ১৫০ রোমানিয়ান লিউ
  • ৮০,১১৭ টাকা

চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত

জিজ্ঞাসাবাদে মফিদুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এবং রিসিভার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের সহযোগিতায় পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ পন্থায় সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণ আনয়ন করে নিজ হেফাজতে রেখে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, “বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান রোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের অপতৎপরতা রোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর ব্যবহার করে যেকোনও চোরাচালান রোধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

আটক মফিদুল ইসলাম খুলনা জেলার লবণচরা থানার বাসিন্দা। এই ঘটনায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও সতর্কতা জারি করেছে এবং চোরাচালান বিরোধী অভিযান তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছে।