নারায়ণগঞ্জে ডিপো কর্মকর্তার বাসায় ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি: প্রায় এক কোটি টাকার লুট
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তেলের ডিপোর এক কর্মকর্তার বাসায় মধ্যরাতে ফিল্মি স্টাইলে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা বাড়ির পেছনের বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে রাখে। এরপর অস্ত্রের মুখে আলমারির চাবি নিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি এলাকার সীমা ডাইং গার্মেন্টস-সংলগ্ন একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা পেট্রোলিয়াম ডিপোর গোদনাইল শাখার কর্মকর্তা মঞ্জিল মোর্শেদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে সাত-আটজনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে এসে বারান্দার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে।
ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা প্রথমে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে বাড়ির মালিক, তার স্ত্রী ও সন্তানদের একটি কক্ষে জিম্মি করে হাত-পা ও চোখমুখ বেঁধে ফেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ডাকাতদের হাতে ছিল চাপাতি ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র। ডাকাতির সময় ভুক্তভোগীদের ভয় দেখাতে ডাকাতরা নিজেদের ডাকাত হিসাবে পরিচয়ও দেয় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী ঐ পরিবারের সদস্যরা।
লুটের পরিমাণ ও পুলিশের তদন্ত
পরিবারের সদস্যরা জানায়, ডাকাতরা তাদের উদ্দেশ্যে বলে- "আমরা চোর না, আমরা ডাকাত।" এরপর অস্ত্রের মুখে বাড়ির মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারির চাবি নিয়ে নেয় তারা। একের পর এক কক্ষ তছনছ করে আলমারি, ড্রয়ার ও লকার খুলে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, ঘড়ি, দামী পোশাক ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনা ঘটে প্রায় ২০ মিনিট সময়ের মধ্যে। এ সময় পুরো পরিবার জিম্মি অবস্থায় আতঙ্কে চিৎকারও করতে পারেনি। পরিবারের এক সদস্য মায়েজ ইবনে মোর্শেদ জানান, ডাকাতরা নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, ৩২ ভরি স্বর্ণালংকার, তিনটি দামী ঘড়ি, শাড়ি, জুতা, জামাকাপড় এবং আরও কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। তার দাবি, ৩২ ভরি স্বর্ণালংকারের মূল্যই প্রায় ৭৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে পরিবারের আরেক সদস্যের বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও দেড় লাখ টাকার মতো নগদ অর্থ লুট হয়েছে। সব মিলিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পৌনে এক কোটি টাকার কাছাকাছি মালামাল লুট হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের পদক্ষেপ
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ডাকাত দলটি আগে থেকেই বাড়িটি রেকি করে থাকতে পারে। কারণ, তারা সরাসরি বাড়ির দুর্বল অংশ লক্ষ্য করে প্রবেশ করেছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে টার্গেটেডভাবে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, "ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে কাজ চলছে। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ডাকাত দলের চলাচলের রুট, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"



