চট্টগ্রামে হেরোইন-ইয়াবার বিশাল চালান জব্দ, ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি-পশ্চিম) বিভাগ একটি বড় ধরনের মাদক পাচার চক্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা হানিফ পরিবহণের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। এই অভিযানে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মাদক পরিবহণকারী বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ও স্থান
সোমবার দিনগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামের শিকলবাহা ক্রসিং এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি টিম গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অবস্থান নেয়। যখন সন্দেহজনক বাসটি ক্রসিং অতিক্রম করে, তখন পুলিশ সিগন্যাল দেয়, কিন্তু বাসটি না থেমে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের টিম বাসটিকে ধাওয়া করে থামাতে বাধ্য করে এবং পরবর্তীতে তল্লাশি চালায়।
জব্দকৃত মাদকের বিবরণ
বাসের পেছনে লোহার তৈরি একটি গোপন বক্সে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ নিম্নলিখিত মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে:
- ৮ কেজি হেরোইন: ৮টি প্যাকেটে এক কেজি করে, আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি টাকা।
- ১৪,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট: ৭০টি প্যাকেটে ২০০ পিস করে, নীল রঙের ভেতরে লুকানো, আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা।
চট্টগ্রামে নিকট অতীতে হেরোইনের এত বড় চালান আর কখনো উদ্ধার হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিবর্গ
এই অভিযানে গ্রেফতারকৃত তিনজন হচ্ছেন:
- আলী হোসাইন প্রকাশ আলী হোসেন (৪২ বছর)
- মো. আজিম (৪০ বছর)
- মোহাম্মদ রাসেল (৪৯ বছর)
পুলিশ জানিয়েছে, এরা সবাই হানিফ পরিবহণের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার হিসেবে কাজ করছেন। তারা যাত্রী পরিবহণের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার করে আসছিল। গ্রেফতারকৃতরা কক্সবাজার থেকে হেরোইন ও ইয়াবা কিনে ঢাকায় দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছিল।
পুলিশের ব্রিফিং ও আইনি পদক্ষেপ
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুর ২টায় একটি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্ণফুলী থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সূক্ষ্ম তদন্ত ও সময়োচিত পদক্ষেপ এই বড় সাফল্য এনে দিয়েছে।
এই অভিযানটি চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাদক পাচার রোধে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা করছেন যে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।



