সোনারগাঁয়ে ছিনতাই প্রতিবাদে ৮ জন কুপিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ দায়ের
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করায় আট জনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রোববার রাতে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বাসাবো এলাকায় এ হামলা সংঘটিত হয়, যেখানে ছিনতাইকারীরা পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জানা যায়, রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে ফতেপুর দড়িকান্দি এলাকার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত ওবায়দুল হকের নেতৃত্বে সাত থেকে আটজনের একটি দলের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হন। আলমগীর চিৎকার করে পার্শ্ববর্তী বাসাবো গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সাখাওয়াত স্থানীয় লোকজন নিয়ে ওবায়দুলের বাড়িতে গিয়ে ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধার করেন, যা পরবর্তীতে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে, ওবায়দুলের নেতৃত্বে এমদাদুল, মাসুদ, মোস্তাফিজুর রহমান, ইলিয়াছ, ফাইজুল হক ও ইব্রাহিম দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন, তার বড় ভাই আওলাদ হোসেন, বসাবো বাইতুন নুর জামে মসজিদের সভাপতি মাছুম মিয়া, তার ভাই মামুন মিয়া, অন্তর মিয়া ও সানি মিয়ার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ বারো হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সাজু বেগম নামের এক নারীর শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ উঠেছে।
আহতদের অবস্থা ও থানার প্রতিক্রিয়া
ঘটনায় গুরুতর আহত সাখাওয়াত হোসেন ও মাছুম মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত আওলাদ হোসেন সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে থানায় বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওবায়দুলের নেতৃত্বে এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চুরিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে এবং ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ বলেন, হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং নাগরিকরা দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার উপর এখন সবার নজর রয়েছে।



