বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বৃদ্ধা নারীকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার সকালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাগুলোর তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই আসামিদের গ্রেফতারের আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে। সেখানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বগুড়া জোনের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার শাহনাজ বেগম (৭০) নিজ বাড়িতে নিহত হন। তিনি একই ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী ছিলেন।
শাহনাজ বেগম হত্যাকাণ্ডের চিত্র
পুলিশ ও এলাকাবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যার পর দুর্বৃত্তরা শাহনাজ বেগমের বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে। ওই সময় এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল বলে জানা গেছে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে শাহনাজ বেগমের পুত্রবধূ রিয়ার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়। পাশের ঘর থেকে চিৎকার শুনে রিয়া তার স্বামী মাহমুদুল হাসান সজিবকে ফোন করেন।
মাহমুদুল হাসান সজিব স্থানীয় বাজারে ওয়ালটনের শো-রুম পরিচালনা করেন। তিনি বাড়িতে ফিরে দেখতে পান, দুর্বৃত্তরা তার মা শাহনাজ বেগমের গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছে। রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহনাজ বেগমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোমেনা বেগম হত্যার ঘটনা
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে রোববার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের জাবারীপুর কাজীপাড়ায়। সেখানে গৃহবধূ মোমেনা বেগম (৭০) পারিবারিক বিরোধের জেরে নিহত হন। তিনি বাবু সরকারের স্ত্রী ছিলেন।
সূত্রমতে, পারিবারিক বিরোধ নিয়ে মোমেনা বেগমের সঙ্গে তার স্বজনদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে কিলঘুসিতে মাটিতে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান শাহীন ও পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস শুকুর ঘটনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তারা জানান, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম হত্যাকাণ্ডের ক্লু পাওয়া গেছে এবং এ নিয়ে তদন্ত কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
ওসি শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, "শাহনাজ বেগম হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আমরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছি। শিগগিরই ঘাতকদের গ্রেফতার করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতিও চলছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "মোমেনা বেগম হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। দুটি ঘটনার লাশই উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত এই দুই হত্যাকাণ্ডে শিবগঞ্জ উপজেলার জনগণ গভীর আতঙ্কে রয়েছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ নারীদের ওপর এমন হামলা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন।
এই ঘটনাগুলো নিম্নলিখিত দিকগুলো উল্লেখযোগ্য:
- দুই হত্যাকাণ্ডই শিবগঞ্জ উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন ইউনিয়নে সংঘটিত হয়েছে
- দুই নিহতই ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা নারী
- একজন ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা, অন্যজন গৃহবধূ
- হত্যার পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে
- পুলিশ উভয় ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি দাবি করছে
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনাগুলো নারী নিরাপত্তা ও বৃদ্ধ নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।



