র্যাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: নতুন মহাপরিচালক
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নতুন মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ স্পষ্ট করে বলেছেন, এই বাহিনীর ভবিষ্যৎ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে র্যাবের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে। গত দেড় বছর ধরে র্যাব যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে সংস্থাটির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় নতুন মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, "আগে কিছু কাজের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে সেই দাগ মুছে ফেলতে চাই।" চিফ প্রসিকিউটর কর্তৃক র্যাবের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত নথি তলব ও তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হলে র্যাব তা প্রদান করবে। তবে এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশি-বিদেশি চাপ ও রাজনৈতিক ব্যবহারের অভিযোগ
র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার চাপের প্রসঙ্গে আহসান হাবিব পলাশ জোর দিয়ে বলেন, "এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। র্যাবের দায়িত্ব হলো অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা।" অতীতে র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে বড় ধরনের অপকর্মের নজির খুবই কম দেখা যায়। সঠিকভাবে পরিচালনা করা হলে র্যাব ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও অভ্যন্তরীণ তদন্ত
জলদস্যুতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে র্যাব মহাপরিচালক জানান, এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহ করে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় র্যাব কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যাবে।
কিশোর গ্যাং সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে এই সমস্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করলেও কিশোরদের আইনের আওতায় আনা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও তথ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। র্যাবের নাম পরিবর্তন বা পুনর্গঠন প্রসঙ্গে আহসান হাবিব পলাশ স্পষ্ট করেন, এটি সম্পূর্ণরূপে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তাদের অগ্রাধিকার হলো দায়িত্ব পালন করা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক সাফল্য
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে র্যাব মহাপরিচালক মন্তব্য করেন, অতীতে কিছু বিচ্যুতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ত্রুটিগুলো সংশোধন করা গেলে ভবিষ্যতে এসব নিষেধাজ্ঞা আর থাকবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক কার্যক্রমের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, গত ৯০ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ১০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্য হত্যার ঘটনায় আরও ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের নতুন মহাপরিচালকের এই বক্তব্যে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ ও চলমান নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পর্কে একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়, যা জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।



