পাবনায় কৃষককে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে হত্যা
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের ঘুঘুদহ পূর্বপাড়া গ্রামে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আফছার সরদার (৪৫) নামে এক কৃষককে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আফছার সরদার কাজী সরদারের ছেলে ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
এলাকাবাসী জানান, রাতে আফছার সরদারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘুঘুদহ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। প্রায় প্রতি বছরই এ বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও আশঙ্কা
এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়ে লুটপাটের ঘটনাও ঘটতে পারে। নিহতের মা আবেদা খাতুন বলেন, "আমার ছেলে সহজ-সরল মানুষ ছিল। সে শুধু কৃষিকাজ করতো, কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা ছিল না।"
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, "আফছার সরদার একজন নিরীহ ও ভালো মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কারও কোনও বিরোধ ছিল বলে জানা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।"
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
সাঁথিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল লতিফ জানান, শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পুলিশ এখন তদন্ত চালিয়ে আসল কারণ ও দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। গ্রামবাসীরা দ্রুত বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।



