ওয়ান ইলেভেনের সময়ের অভিযোগ: সাবেক সেনা কর্মকর্তারা তৎকালীন সেনাপ্রধানের ওপর দায় চাপাচ্ছেন
ওয়ান ইলেভেন: সাবেক সেনা কর্মকর্তারা সেনাপ্রধানের ওপর দায় চাপাচ্ছেন

ওয়ান ইলেভেনের সময়ের অভিযোগ: সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য

রিমান্ডে থাকা তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওয়ান ইলেভেনের সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধানের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রিমান্ডে থাকা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছের জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পটভূমিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের ঘটনা তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সিদ্ধান্তেই সংঘটিত হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখযোগ্য দাবি

জিজ্ঞাসাবাদ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাবেক এই কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তারেক রহমানকে কারা নির্যাতন করেছেন এবং এই প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তরে তারা জানিয়েছেন, সবকিছুই হয়েছে তখনকার সেনাপ্রধানের নির্দেশে। তারা আরও দাবি করেছেন, ওয়ান ইলেভেনের পুরো সময়জুড়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পার্ট দেখভাল করতেন মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, অন্যদিকে বিএনপির অংশ দেখতেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফজলুল বারী।

রাজনৈতিক দল দেখভালের গতিপ্রকৃতি

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বলেন, শুরুর চার থেকে পাঁচ মাস এভাবে চললেও একপর্যায়ে সবকিছু সমন্বয় করতে শুরু করেন এটিএম আমিন, যার ফলে ফজলুল বারী গুরুত্বহীন হয়ে পড়েন। ওয়ান ইলেভেন শুরুর কিছুদিন পর থেকেই এটিএম আমিনের হয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেন শেখ মামুন খালেদ, এবং মামুনের হয়ে কাজ করতেন লে. কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছের। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আফজাল নাছের চাকরি থেকে বরখাস্ত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র আরও জানিয়েছে, ওয়ান ইলেভেনের সময় মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিনের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন তৎকালীন মেজর সুলতানুজ্জামান সালেহ। শুরুতে তাকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে (ডিজিএফআই) এটাচমেন্টে নিয়ে আসেন এটিএম আমিন এবং ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা হয়। তিনি সারা দেশে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কদের সঙ্গে অপারেশন সমন্বয় করতেন।

অন্যান্য অভিযোগ ও রিমান্ডের অবস্থা

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ডিবির কাছে দাবি করেছেন, ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগেই দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীকে তা অবহিত করা হয়েছিল। ঐ সময় সরকারের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৎকালীন প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের খসড়াও তাদের দপ্তর থেকেই নির্ধারিত হতো।

এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আবার ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেয়। এর আগে এই মামলায় মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

মামুন খালেদকে ২৫ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে আটক করে ডিবি। তিনি ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই পদে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন এবং ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।