মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পরকীয়ার অপবাদে জেলেকে মারধর করে হত্যা
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এক ব্যক্তিকে মারধরের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাতে মারধরের শিকার হওয়া ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি পরকীয়ার অপবাদের জেরে সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও বিবরণ
লৌহজং উপজেলার একটি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করতেন প্রবাসীর ছোট ভাই। ওই নারী নিজের দেবরকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছিলেন। অন্যদিকে, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। এই সম্পর্ককে পরকীয়া আখ্যা দিয়ে সোমবার রাতে নিহত ব্যক্তিকে ডেকে মারধর করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর এক সহযোগী।
মারধরের সময় ওই ব্যক্তির নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও অভিযুক্তদের অবস্থা
নিহত ব্যক্তির বড় মেয়ে বলেন, 'আমার বাবা একজন জেলে ছিলেন, মাছ ধরে সংসার চালাতেন। সোমবার রাতে তাঁকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।'
প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, 'আমার দেবর অনেক দিন ধরে আমাকে বিরক্ত করছে। আমার সম্মানহানি করতে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহত ব্যক্তি একজন বয়স্ক মানুষ, আমার বাবার বয়সী, তিনি আমাদের বাড়ির আশপাশেও আসেননি।'
ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে এলাকাবাসী প্রধান অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে তাঁর সহযোগী আরেক অভিযুক্ত পলিয়ে যান।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, 'এ ঘটনায় লৌহজং থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেকজনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে।'
এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।



