চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় একটি বড় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এই অভিযানে একটি প্রাইভেটকারসহ মোট ৫৭৬ বোতল অবৈধ ফেয়ারডিল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুইজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানের সময় ও স্থান
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর পৌনে ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারের পাকা রাস্তায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতদের পরিচয়
আটককৃত দুইজন হলেন পটুয়াখালী জেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বাবু জমাদারের ছেলে জনি (৪০ বছর) এবং একই এলাকার কাদের হাওলাদারের ছেলে আলিম হোসেন (৩৬ বছর)। তাদের ব্যবহৃত একটি এলিয়েন প্রাইভেটকার এবং চারটি স্মার্ট মোবাইল ফোনও পুলিশ জব্দ করেছে।
অভিযানের বিবরণ
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, জীবননগরের হাসাদহ বাজারের সামনে পাকা রাস্তায় নিয়মিত চেকপোস্ট ডিউটির সময় একটি প্রাইভেটকারের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু চালক সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে ডিবি পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে গাড়িসহ দুজনকে হেফাজতে নেয়।
পরে গাড়িটি তল্লাশি করে ৫৭৬ বোতল নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের অনুমান অনুযায়ী, এই মাদকদ্রব্যের বাজার মূল্য আনুমানিক ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এই উদ্ধারকৃত ফেয়ারডিল বোতলগুলো স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
আইনগত পদক্ষেপ
পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
জীবননগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে মাদকবিরোধী এমন কার্যক্রম এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতেও পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনা চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কারবার রোধে তারা কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে এবং যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা গাড়ির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



