সুন্দরবনে দস্যুদের কবল থেকে জেলে মজিবর গাজীকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড
সুন্দরবনে দস্যুদের কবল থেকে জেলে উদ্ধার

সুন্দরবনে দস্যুদের কবল থেকে জেলে মজিবর গাজীকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড

সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে দস্যুদের কবল থেকে এক জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। আজ মঙ্গলবার ভোরের আগে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদীসংলগ্ন খড়কুড়িয়া খালে অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলের নাম মজিবর গাজী (৫০)। তিনি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কয়রা থানার অন্তর্গত সুন্দরবনের খড়কুড়িয়া খাল এলাকায় জোনাব বাহিনীর অবস্থান আছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে কোস্টগার্ডের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দস্যুদের জিম্মিতে থাকা ওই জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় দস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

জেলের বর্ণনায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

মজিবর গাজী বলেন, গত শনিবার তিনি মাছ ধরতে নৌকা ও জাল নিয়ে সুন্দরবনে যান। পরদিন রোববার সকালে জোনাব বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে আটক করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পাওয়ায় সোমবার সন্ধ্যার পর তাঁকে মারধর করে নৌকার পাটাতনের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। তিনি বলেন, ‘শেষরাত্রির দিক কোস্টগার্ডের টহল বোট আসার খবর পাইয়ে ডাকাতির দল আমারে বান্দা অবস্থায় ফেলাই রাইখে পোলায়ে চলি যায়। পরে কোস্টগার্ডের লোকজন লাইট মাইরে আমারে দেখতি পায়ি উদ্ধার করিছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও চলমান তৎপরতা

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলেকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে দস্যু দমনে নিয়মিত অভিযান, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনা সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জগুলিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত হলেও দস্যুতা ও অপরাধমূলক কার্যক্রম এখানে একটি বড় সমস্যা। কোস্টগার্ডের এই উদ্ধার অভিযান স্থানীয় জেলেদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ দিচ্ছে।