কটিয়াদীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ বিস্ফোরণ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে। উত্তেজিত জনতা সোমবার সন্ধ্যার পর উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পাঁচ মাদককারবারির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাদল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ: পুলিশ ও প্রশাসন নিষ্ক্রিয়
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লোহাজুরী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদককারবারিদের দৌরাত্ম্যে যুবসমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে মাদক ব্যবসা বন্ধ তো হয়নি, বরং দিন দিন আরও বিস্তার লাভ করেছে।
উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উত্তর লোহাজুরী গ্রামের বাসিন্দা জয় আহমেদ বকুল বলেন, "লোহাজুরী ইউনিয়নে মাদককারবারিদের বিষয়ে আমরা বারবার জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকার পাইনি। আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের এ ব্যবসা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছি; কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত না করে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।"
ভাঙচুর করা বাড়িগুলোর তালিকা
জনতার হামলার শিকার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িগুলো হলো:
- দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের সাইফুল ইসলাম (বিলপাড়)
- মুহিউদ্দীন কালা ও তার স্ত্রী রোকিয়া বেগম (কাজীর মোড়)
- আমজাদ হোসেন (বাকশা বাড়ি)
- উত্তর লোহাজুরী গ্রামের ডিশান মিয়া
- চরকাউনিয়া গ্রামের বাদশা আফ্রাদের বাড়ি
মাদকসহ এক ব্যক্তির আটক
সোমবার বিকালে উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকার একটি সেতুর ওপর থেকে বাদল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে তাকে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক বাদল মিয়া দক্ষিণ লোহাজুরী গ্রামের আইন উদ্দিন বেপারীর ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, লোহাজুরী ইউনিয়নের লোকজন সোমবার বিকালে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ বাদল মিয়া নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে মাদককারবারিদের পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজও মাদককারবারিদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও আটকের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
জনতার ক্ষোভের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কটিয়াদীর লোহাজুরী ইউনিয়নে গত কয়েক বছর ধরে মাদক ব্যবসা জেঁকে বসেছে। মাদককারবারিরা প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বারবার অভিযোগ করেও যখন পুলিশ ও প্রশাসন থেকে কোনো সাড়া মেলেনি, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ একপর্যায়ে বিস্ফোরিত হয়।
এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যখন ব্যর্থ হয়, তখন জনগণই নিজেদের হাতে নিয়ন্ত্রণ নিতে বাধ্য হয়।



