কক্সবাজারে মানব পাচারকারীদের আস্তানা থেকে নারী-শিশুসহ সাতজন উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় মানব পাচারকারীদের একটি আস্তানা থেকে নারী ও শিশুসহ মোট সাতজনকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই উদ্ধার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি বসতবাড়িতে কয়েকজন নারী ও শিশুকে অবৈধভাবে আটকে রেখে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে বলে তথ্য পায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে কোস্ট গার্ডের টেকনাফ স্টেশন একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আটক রাখা নারী ও শিশুসহ মোট সাতজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
পাচারকারীরা পালিয়ে যায়
কিন্তু কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই সাতজনকে টেকনাফের আস্তানাটিতে নিয়ে আসে। সেখান থেকে তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে এর আগেই কোস্ট গার্ডের অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃতদের থানায় হস্তান্তর
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, উদ্ধার হওয়া সাতজনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মানব পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনাটি টেকনাফ এলাকায় মানব পাচারের ক্রমবর্ধমান সমস্যা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করে।
কোস্ট গার্ডের এই সফল অভিযানটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের নিরাপদে উদ্ধার করা এবং আইনগত সহায়তা প্রদান এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



