বাগেরহাটে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা: আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেজে বাড়িতে ঢুকেছিল
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় এক কলেজছাত্রকে তার বাবার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে শিবপুর গ্রামে। নিহতের নাম আমির হামজা, যিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের প্রথম বর্ষের সম্মান শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সাক্ষীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একদল সশস্ত্র আসামি মোটরসাইকেলে করে শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। আমির হামজা সেই সময় বাড়ির আঙিনায় তার বাবা ও চাচার সাথে কথা বলছিলেন।
আসামিরা আমির হামজাকে লক্ষ্য করে তাকে ধরতে এগোলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাড়ির পাশের একটি খালের কাছে তিনি পড়ে যান। এরপর আসামিরা কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে। গুলিবিদ্ধ আমির হামজা ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে আসামিরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
নিহতের পরিচয় ও পুলিশের তদন্ত
নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজে প্রথম বর্ষের সম্মান শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। পাশাপাশি খুলনার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করতেন। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লাশ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে পোস্টমর্টেমের জন্য। তিনি আরও বলেন, "ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমরা তদন্ত জোরদার করেছি।"
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেজে বাড়িতে ঢুকতে পারল। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার কারণ ও আসামিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে।
এই ঘটনায় কলেজছাত্র হত্যার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে অপরাধের একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।



