মনছো ২৪-এর ছয় দাবি: নিরাপদ সড়ক-নৌপথ ও হাদি হত্যাকাণ্ডে বিচার চাইলেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ছয়টি দাবি উপস্থাপন করেছে সংগঠনটি। সংগঠনের আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকি লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার কারণে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি দৌলতদিয়া ও অন্যান্য এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ২০টিরও বেশি বড় দুর্ঘটনার উল্লেখ করেন, যাতে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। ফারুকি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনাগুলো কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার ফল।
দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
- নিরাপদ সড়ক ও নৌপথ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- হাদি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেশে ফেরত এনে বিচার নিশ্চিত করা।
- একটি স্বাধীন উচ্চস্তরের বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করা।
- সীমান্ত পার হওয়ার সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা।
- ভারতে ইউএপিএ আইনের অধীনে বিলম্ব এড়াতে বিশেষ আইনজীবী সেল গঠন করা।
- সন্দেহভাজনদের প্রত্যাবাসনের জন্য ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দৃশ্যমান রোডম্যাপ বা অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা।
ফারুকি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মাত্র ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান সরকারের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ। তিনি প্রভাবিত পরিবারগুলোর জন্য সমন্বিত ও মানবিক উদ্যোগের আহ্বান জানান। হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ফারুকি উল্লেখ করেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও তাদের দ্রুত দেশে ফেরত এনে বিচার নিশ্চিত করতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
সংগঠনের উপদেষ্টার বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আজিজ সন্দেহভাজনদের সীমান্ত পার হওয়াকে একটি মঞ্চায়িত ‘নাটক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি যোগ করেন, বর্তমান সরকার সরাসরি দায়ী না হলেও সন্দেহভাজনদের ফেরত আনা ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের।
সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে জনগণের অংশগ্রহণে ‘নিরাপদ পরিবহন আন্দোলন’ শুরু করা হবে। এই পদক্ষেপ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি ও দুর্ঘটনা রোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।



