মাদারীপুরে বাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, উত্তেজনা
মাদারীপুরে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মাদারীপুরে বাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মাদারীপুরের সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রাখালহাটি গ্রামে বাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য সুব্রত শিকদারের স্ত্রী গৃহবধূ বনানী শিকদার (৩৫) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় স্বজন ও এলাকাবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে গ্রামের কয়েকজন শিশু পটকাবাজি ফোটাচ্ছিল। এ সময় বাজির ফুলকি গিয়ে পড়ে প্রতিবেশী মন্টু শিকদারের স্ত্রী অমৃতি শিকদারের কাপড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্য সুব্রত শিকদারের স্ত্রী বনানী শিকদারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে প্রতিবেশী মন্টু শিকদার (৬০) উত্তেজিত হয়ে হালচাষের লাঠি দিয়ে বনানীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রবল আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও মৃত্যু

বনানীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসী ও পরিবার সদস্যদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশি ব্যবস্থা ও গ্রেফতার

খবর পেয়ে শ্রীনদী ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় দ্রুত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন তোলক শিকদার (৪৪), মনির শিকদার (৩৮) ও রবি শিকদার (৪২)। তাদেরকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এলাকায় উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।