কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: গেইটম্যান গ্রেফতার, র্যাবের তদন্ত চলমান
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় প্রধান আসামি গেইটম্যান হেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার তহুরা জান্নাত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার অপর আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব হেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে র্যাব-১১ সিপিসি-২ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই ঘটনায় সোমবার লাকসাম রেলওয়ে থানায় রেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পটভূমি
শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে মেইল ট্রেনের সঙ্গে 'মামুন স্পেশাল' নামের যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীমউদ্দীন জানান, দায়িত্বে অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে ৩০৪ ‘ক’ ধারার আইনে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলা দায়ের ও আহতদের অবস্থা
দুর্ঘটনায় নিহত সোহাগ রানার খালা শেফালী আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তিনি ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। শেফালী আক্তার বলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ উদযাপনের জন্য চুয়াডাঙ্গার বাড়িতে আসেন। সেখান থেকে ঈদের দিন লাকসামে তার খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় লেভেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। একই ঘটনায় আহত সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপদ সড়ক ও রেল ব্যবস্থাপনার দাবি জোরদার হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।



