কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: গেটম্যানের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, একজন গ্রেফতার
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: গেটম্যান অবহেলার অভিযোগ

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: গেটম্যানের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে সংঘটিত বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় গেটম্যানের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। র‍্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক লে. কমান্ডার মো. নাঈম উল হক বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানের কেউই ঘটনাস্থলে ছিল না, যা এই মর্মান্তিক ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও গ্রেফতার

গত ২২ মার্চ রাত ৩টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা সদরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় যশোর থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনে ধাক্কা লাগে। এই সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে সোহেল রানার খালা বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যাতে ওই রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে আসামি করা হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা নাঈম উল হক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কর্তব্যরত গেটম্যান রেলক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় দুই গেটম্যান মো. হেলাল (৪১) ও মেহেদী হাসান কেউই ঘটনাস্থলে ছিল না এবং তারা দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের শংকুচাইল এলাকা থেকে হেলালকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-১১। তিনি এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, গ্রেফতার হেলালকে লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সেই সঙ্গে মামলার অন্য আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় গেটম্যানদের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই দুর্ঘটনা রেলওয়ে ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ তদন্তে আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।