লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ: পথচারী গুলিবিদ্ধ, যুবক মারধর
লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির তীব্র সংঘর্ষ ঘটেছে। এ সময় আব্দুর রহিম (৫৪) নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ এবং সাইফুল ইসলাম মানিক (২০) নামে একজনকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ও স্থান
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৯টায় সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে আফজাল রোডের মুখে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রাম ও শেখপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সোমবার (২৩ মার্চ) মারামারি শুরু হয়। এর জের ধরেই মঙ্গলবার উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির তীব্র সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
আহতদের পরিচয়
গুলিবিদ্ধ আব্দুর রহিম শেখপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে এবং পেশায় একজন গাছ ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, আহত মানিক সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের পূর্ব জাফরপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। ঘটনার সময় আব্দুর রহিম নামে এই পথচারীর বাঁ পায়ে গুলি লাগে এবং মানিককে চেইন দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। পরে তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পক্ষগুলোর নেতৃত্ব
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, এতে দেওপাড়া গ্রামের রাকিব পাটওয়ারী এবং শেখপুর গ্রামের মিতুল নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাকিবের লোকজন অস্ত্রধারী ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। রাকিব হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি বলে জানা যায়, যা ঘটনার প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চিকিৎসা ও পুলিশি তদন্ত
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাম সৌরভ বলেন, ‘আব্দুর রহিমের বাঁ পায়ে গুলির আঘাত রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মানিককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে দুই পক্ষ পালিয়েছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।’
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আধিপত্য নিয়ে গ্রাম্য সংঘর্ষের এমন ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



