কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই বংশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ৩০ জন আহত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা
গায়ে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই বংশের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘ চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামে তারাগাঁজীর বাড়ি ও খাঁ বাড়ির লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।
দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খাঁ বাড়ি ও তারাগাঁজীর বাড়ির লোকজনের মধ্যে ঈদের আগে থেকেই বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বা দরবারের কথা থাকলেও তারাগাঁজীর বাড়ির লোকজন তাতে অংশ নিতে রাজি হননি। এই রেষারেষির মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজ পাগলা মাজারে ওরস চলাকালে দুই পক্ষের যুবকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে রাত ৮টার পর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের তীব্রতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ
সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরুতেই পুলিশ ব্যর্থ হয়। পরে র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২২ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার এড়াতে তারাগাঁজীর বাড়ির আহতরা কুলিয়ারচরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আটক ও আইনি পদক্ষেপ
ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু তালেব জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোনো পক্ষই অভিযোগ না দিলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে বলে তিনি জানান। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।



