কুমিল্লার ট্রেন-বাস দুর্ঘটনা মামলায় র্যাবের গ্রেফতার, আসামি গেটম্যান হেলাল উদ্দিন
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় সংঘটিত ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ জন যাত্রী নিহতের মর্মান্তিক ঘটনায় দায়ের করা মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. হেলাল উদ্দিন, যিনি ওই এলাকার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে র্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারের সময় ও স্থান
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশিদল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার মিঠুন কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গেটম্যান হেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছি। এ বিষয়ে আগামীকাল র্যাব সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।’
মামলার পটভূমি ও আসামিদের তালিকা
গত শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন ধাক্কা দেয়। এ দুর্ঘটনায় সাত জন পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশুসহ মোট ১২ জন যাত্রী প্রাণ হারান এবং অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনায় সোমবার দুপুরে শেফালী আক্তার (৫৮) নামের এক নারী কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী মো. হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
দায়িত্বে অবহেলা ও বরখাস্ত
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানের দায়িত্বহীনতায় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। যদিও মামলার কাগজপত্রে একজনকে অস্থায়ী গেটম্যান এবং অন্যজনকে ওয়েম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেলওয়ে বিভাগ ইতিমধ্যে এই দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে, যা ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করছে। গ্রেফতারের পর হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।



