ঢামেক হাসপাতাল থেকে অপহৃত দুই বছরের শিশু ফুজাইল উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
ঢামেক থেকে অপহৃত শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার

ঢামেক হাসপাতাল থেকে অপহৃত দুই বছরের শিশু ফুজাইল উদ্ধার

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে অপহরণের ১৪ ঘণ্টা পর দুই বছর বয়সী শিশু কাজী ফুজাইলকে রাজধানীর ধলপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এ সময় অপহরণের অভিযোগে এম এম তানভীর (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির পরিবার রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকায় বসবাস করে।

ঘটনার বিবরণ

শনিবার ঈদের দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফুজাইলকে সঙ্গে নিয়ে তার মা ও খালা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের বাবা হাফেজ নাসির উদ্দিনকে দেখতে যান। বেলা তিনটার দিকে হঠাৎ ফুজাইল নিখোঁজ হয়। ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না শুনে তার বাবা মো. মাজহারুল ইসলাম হাসপাতালে ছুটে আসেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও ফুজাইলকে আর পাওয়া যায়নি।

রাতে অপহরণকারী মুক্তিপণ দাবি করেন এবং না হলে ফুজাইলকে হত্যার হুমকি দেন। এরপর মাজহারুল ইসলাম তাঁর সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। র‍্যাব-১০–এর একটি দল ফুজাইলকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার অভিযান ও গ্রেপ্তার

র‍্যাব-১০–এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকা থেকে অপহরণকারী এম এম তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শিশু ফুজাইলকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তানভীরের বাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরামপুরে। তাঁকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর র‍্যাবকে বলেছেন, ফুজাইল বারবার তার মায়ের কাছে যেতে কান্নাকাটি করছিল। এ সময় তিনি (তানভীর) শিশুটিকে বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও শিশু খাবার কিনে দিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিবারের বক্তব্য

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটি হাসপাতালের বারান্দায় একা হাঁটছিল। একপর্যায়ে নেভি ব্লু ফুলশার্ট ও খাকি রঙের প্যান্ট পরা এক যুবক শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে যায়।

শিশু ফুজাইলের মা নুসরাত জাহান তাকিয়া জানান, দুপুরে সবাই মিলে খাওয়ার সময় হঠাৎ করেই ফুজাইলকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শিশুটির মামা সাদ বলেন, নিখোঁজের পর রাত ৯টা থেকে অপহরণকারীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

সাদ বলেন, ‘অপহরণকারীরা আমাকে ফোন করে বলে আপনার ভাগনেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তার কিডনি নিয়ে নেওয়া হবে। তাকে জীবিত পেতে হলে দ্রুত টাকা নিয়ে কিডনি ফাউন্ডেশনের পাশে আসতে হবে।’ অপহরণকারীদের ফাঁদে পা না দিয়ে কৌশলী ভূমিকা পালন করেন সাদ। তিনি বলেন, ‘আমি টাকা দিতে ইচ্ছে করে দেরি করছিলাম এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাদের সঙ্গে কথা বলে লোকেশন ট্র্যাক করার সময় বের করি। এই সুযোগে র‍্যাব তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে ফুজাইলকে উদ্ধার করে।’