ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদের দিন সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক মানুষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিন পৃথক দুটি সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ভলাকুট ইউনিয়ন এবং সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাতে জানা গেছে, এই সংঘর্ষগুলো পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের জেরে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুড়িশ্বর ইউনিয়নে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষ
বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তিকে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে একই কৌশলে আরেকজনকে ডেকে এনে নির্যাতন করা হলে স্বজনরা উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন।
ভলাকুট ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ
অন্যদিকে, ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সকালেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের নামাজের পর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, "আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদের আনন্দমুখর পরিবেশে এই সংঘর্ষগুলো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন, তবে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে আরও উদ্যোগের আহ্বান জানান। এই ঘটনাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।



