ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে চোরের তৎপরতা: অসতর্কতাই বড় কারণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক প্রস্তুতি
ঈদে ঢাকায় চোরের তৎপরতা: অসতর্কতাই বড় কারণ

ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে চোরের তৎপরতা: অসতর্কতাই বড় কারণ

ঈদের ছুটিতে যখন রাজধানী ঢাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে, তখনই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোর ও সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকলেও অপরাধীদের পুরোনো কৌশলগুলো এখনও কার্যকর বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানুষের অসতর্কতা ও সচেতনতার অভাবই এর বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চোরচক্রের পরিকল্পিত কৌশল

অভিজ্ঞ চোরচক্র সাধারণত সরাসরি হামলা চালায় না। তারা কয়েকদিন ধরে টার্গেট নির্ধারণ করে নেয়। কখনও বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলার ভান, কখনও কুরিয়ার সার্ভিস বা ডেলিভারি কর্মী সেজে তথ্য সংগ্রহ—এভাবেই তারা পরিস্থিতি যাচাই করে। দারোয়ান বা নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে বাসা ফাঁকা কিনা নিশ্চিত হয়। ঈদের আগেই তারা বুঝে নেয় কোন পরিবার শহর ছাড়ছে। এরপর চুরি বা অপরাধের আগে নিশ্চিত হতে চায় বাসায় কেউ আছে কিনা।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অপরাধের ঘটনা

তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েও চুরি করতে যায় চোরচক্র। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের নিচতলায় চুরির চেষ্টা চালায় চোরেরা। এক চোর জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে, আরেকজন বাইরে পাহারায় ছিল। এ সময় আনসার সদস্যরা রেজাউল ও রাতুল নামের দুই চোরকে আটক করেন। চোরদের হামলায় আনসারের এক সদস্য আহত হন। পরে তাদের শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর একদিন আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর তুরাগের দিয়াবাড়িতে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্বামী লিমন হোসেন তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন ট্রান্সফিউশন সেন্টার’ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা তাপস বসু।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের টানা ছুটিতে রাজধানী প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‌্যাব ও পুলিশের অন্তত ১৬ হাজার সদস্য মাঠে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে, বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এসবের ফাঁক গলে অপরাধীরা তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট বা ডিশলাইন কর্মীর পরিচয়ে বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করছে অপরাধী চক্র।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘ঈদে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।’’

সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি আলী হোসেন ফকির গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফাঁকা ঢাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসা ফাঁকা রাখার আগে নিকটস্থ থানা বা নিরাপত্তাকর্মীকে জানালে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।’’