ভোলায় নদীতে ডুবে যাওয়া পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার, শটগান ও গুলি নিখোঁজ
ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে স্পিডবোট ডুবে যাওয়ার দুর্ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা শটগান ও ১০টি গুলির সন্ধান এখনো মেলেনি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
ঘটনার বিবরণ
গত বুধবার রাত আটটার দিকে লালমোহনের মঙ্গল সিকদার লঞ্চঘাট এলাকায় মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ অভিযানে নদীতে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাঁদের স্পিডবোটটি হঠাৎ বিকল হয়ে স্রোতে ভাসতে শুরু করে। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীবাহী এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর মুহূর্তে স্পিডবোটটি স্রোতের টানে লঞ্চের পেছনের প্রপেলারের কাছে চলে যায়। স্পিডবোটটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা দ্রুত ডুবে যায়। অন্য পুলিশ সদস্য ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মীরা সাঁতরে তীরে উঠলেও কনস্টেবল ফখরুল ইসলাম নিখোঁজ হন, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
মরদেহ উদ্ধার ও অনুসন্ধান
শুক্রবার সন্ধ্যায় দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলাসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নিশ্চিত করে যে এটি ফখরুল ইসলামের। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল ইসলাম জানান, নিখোঁজের পর ফখরুল ইসলামকে উদ্ধারে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক দফা ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল, কিন্তু আগে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মৃত ফখরুল ইসলাম লালমোহনের মঙ্গল সিকদার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর স্থায়ী বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর ব্যবহৃত শটগান ও গুলি এখনো উদ্ধার করা যায়নি, যা ঘটনার তদন্তকে জটিল করে তুলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায় ও পুলিশ বাহিনীতে শোকের ছায়া ফেলেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন কীভাবে একটি সরকারি অভিযানে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল এবং অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষজ্ঞরা নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।



