ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে চা খাওয়া নিয়ে তর্ক থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে সংঘটিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
গ্রামবাসীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গোপীনাথপুর গ্রামে ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইসমাইল মুন্সির ছেলে ফুয়াদের সঙ্গে চুন্নু মিয়ার ছেলে ইব্রাহিমের মধ্যে চা খাওয়া নিয়ে তর্ক শুরু হয়। এই তর্ক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়।
সংঘর্ষের বিস্তার
ঝগড়া বাড়তে বাড়তে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে গাছের ডাল, সুরকি, টেটা, রানদা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী এই মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি বিরাজ করে। পরে দুই গ্রামের মাতুব্বরদের সহায়তায় সংঘর্ষ বন্ধ হয়।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন যে, সংঘর্ষের সময় তারা পুলিশকে ফোন করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, "সংঘর্ষের ব্যাপারে কেউ আমাদেরকে জানায়নি।" তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামবাসীরা দ্রুত পদক্ষেপের জন্য পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করছিলেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এমন সংঘর্ষ আগেও ঘটেছে, কিন্তু এবারের ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে চা খাওয়া নিয়ে তর্কের কারণে। স্থানীয়রা শান্তি বজায় রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় সাম্প্রতিক এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন আহতরা ও তাদের পরিবার।



