ঈদে ঢাকার নিরাপত্তায় ১৬ হাজার পুলিশ-র‍্যাব সদস্য, ট্রাফিক পুলিশও অস্ত্রধারী
ঈদে ঢাকায় ১৬ হাজার পুলিশ-র‍্যাব, ট্রাফিক পুলিশ অস্ত্রধারী

ঈদে ঢাকার নিরাপত্তায় ১৬ হাজার পুলিশ-র‍্যাব সদস্য, ট্রাফিক পুলিশও অস্ত্রধারী

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সাত দিনের সরকারি ছুটিতে রাজধানী প্রায় খালি হয়ে যাওয়ায় মানুষের জানমাল রক্ষায় অন্তত ১৬ হাজার পুলিশ-র‍্যাব সদস্য তৎপর রয়েছেন। এ সময় রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসানো, বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের নতুন ভূমিকা

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, ঈদের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ দায়িত্বে রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, "ঘরমুখী মানুষের ঢাকা ছাড়ার পর ঈদের কেনাকাটা, বিপণিবিতান, টার্মিনাল ও স্থাপনায় দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও সড়কে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তার কাজে লাগানো হচ্ছে।"

মো. সরওয়ার আরও উল্লেখ করেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রমজান মাস থেকেই ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দায়িত্ব পালনকালে হাতেনাতে ছিনতাইকারী পাকড়াও করছেন। সাদাপোশাকে পুলিশ ও তথ্যদাতাদের মাধ্যমে অপরাধীদের আনাগোনা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোনার মার্কেট ও আবাসিক এলাকায় কড়া নজরদারি

ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ছুটিতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে রাতের বেলায় পুলিশি টহল ও তল্লাশিচৌকি বাড়ানো হয়েছে। পুরান ঢাকা ছাড়াও মহানগরের বিভিন্ন এলাকার সোনার মার্কেটে থাকবে পুলিশের কড়া নজরদারি। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও পর্যাপ্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, "ঈদ উপলক্ষে এখন পুলিশের মনোযোগ দুটি জায়গায়—প্রথমত, টার্মিনালগুলো থেকে যাতে মানুষ হয়রানি ছাড়া বাড়ি ফিরতে পারে; দ্বিতীয়ত, ফাঁকা হয়ে যাওয়া আবাসিক এলাকা। বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে গেলে চুরি বা সিঁধ কাটার ভয় থাকে। এসব জায়গায় পর্যাপ্ত টহল থাকবে।"

র‍্যাবের বিশেষ তৎপরতা

ঈদের আগে ও পরে র‍্যাব ১, ২, ৩, ৪ ও ১০-এর প্রায় এক হাজার সদস্য ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছেন। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীতে প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ে। সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে ঢাকায় প্রতিদিন ৩০টির বেশি তল্লাশিচৌকি এবং ৫০টির বেশি টহল দল কাজ করছে।

ইন্তেখাব চৌধুরী আরও জানান, গুজব ও অপপ্রচার রোধে র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং দল কাজ করছে। এ ছাড়া টিকিট কালোবাজারি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং মহাসড়কে ডাকাতি ঠেকাতে র‍্যাবের টহল দল সক্রিয় রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডগ স্কোয়াড এবং হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ডিএমপির বিস্তারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোজার প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন বিপণিবিতানে এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে বিশেষ ডিউটি করানো হচ্ছে। প্রতিদিন তিন পালায় ডিএমপির সাড়ে ৪ হাজার সদস্য মোট ৩০০ পিকআপ ভ্যানে শহরজুড়ে টহল দিচ্ছেন। এর বাইরে প্রতিদিন তিন পালায় হেঁটে দেড় হাজার পুলিশ সদস্য এবং নিয়মিত পুলিশের মোটরসাইকেল টহল অব্যাহত রয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন তিন পালায় চার হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

ইতিমধ্যে ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার ও আড়তের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থান, সড়ক, স্থাপনা, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের ধরতে পুলিশ ও র‌্যাবের বিশেষ দল সক্রিয় রয়েছে।