মেঘনা নদীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিখোঁজ, অস্ত্রও তলিয়ে গেছে
ভোলার লালমোহন উপজেলায় মেঘনা নদীতে এক ভয়াবহ স্পিডবোট দুর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা একটি শটগান ও ১০ রাউন্ড গুলিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৭টার দিকে মঙ্গলসিকদার ঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা অভিযান পরিচালনার জন্য একটি দল গঠন করা হয়। এই দলে মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই ওমর ফারুকের নেতৃত্বে কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম, মো. আল-আমিন, হাসিবুর রহমান এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষেত্রসহকারী সাইফুল ইসলাম সোহাগ, মনোয়ার হোসেন ও অফিস সহকারী আব্বাস উদ্দিন ফরাজি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তারা মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাট থেকে স্পিডবোটযোগে অভিযানে রওয়ানা হন। কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ স্পিডবোটটি বিকল হয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাটে নোঙর করা ঢাকাগামী কর্ণফুলী-১২ লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এই ধাক্কায় স্পিডবোটটি উল্টে যায়, যাতে পুলিশ সদস্য ও মৎস্য বিভাগের অন্যান্য সদস্যরা মেঘনা নদীতে পড়ে যান।
উদ্ধার ও নিখোঁজের ঘটনা
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রলার দিয়ে ছয়জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। লালমোহন থানার বিবৃতিতে জানানো হয়, নিখোঁজ পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন এবং তার কাছে একটি শটগান ও গুলি ছিল।
ওসি মো. অলিউল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য ও অন্যান্যরা উদ্ধার হতে সক্ষম হলেও কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম নিখোঁজ হয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা শটগান ও ১০ রাউন্ড গুলিও পানির নিচে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
নিখোঁজ পুলিশ সদস্য ও অস্ত্র উদ্ধারে লালমোহন থানা পুলিশ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট থানাকে দ্রুত অবহিত করার জন্য জনগণের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার সময় স্পিডবোটে মোট সাতজন ছিলেন, যার মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য ও তিনজন মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন।



