ঈদুল ফিতরে সারাদেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে র্যাব
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ এবং সারাদেশে অত্যন্ত কঠোর ও সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন।
বহুমুখী নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, "ঈদুল ফিতরের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন করেছে। ঈদ উদযাপনকালে সারাদেশের নিরাপত্তার জন্য র্যাব কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল পেট্রোল, যানবাহন স্ক্যানার, পর্যবেক্ষণ পোস্ট, চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। কর্নেল ইফতেখার আহমেদ বলেন, "শুধু জাতীয় ঈদগাহ নয়, দেশের অন্যান্য প্রধান ঈদগাহ যেমন শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ঈদগাহতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসব স্থানে নিরাপত্তা ঝাড়াই এবং পূর্ণ সিসিটিভি কভারেজের আওতায় রাখা হবে।"
যাত্রী ও গণপরিবহনে বিশেষ নজরদারি
র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক জানান, বাড়ি ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি র্যাব ব্যাটালিয়নগুলো বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ গণজমায়েতের স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, যেকোনো ধরনের টিকিট কারচুপি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাইবার নিরাপত্তা ও গুজব প্রতিরোধ
প্ররোচনামূলক তথ্য প্রতিরোধ সম্পর্কে কর্নেল ইফতেখার আহমেদ বলেন, "ঈদকে কেন্দ্র করে ভার্চুয়াল জগতে কোনো গুজব, প্ররোচনামূলক তথ্য বা ভুয়া খবর ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি সাইবার-মনিটরিং দল অনলাইনে ২৪/৭ নজরদারি চালাচ্ছে।
ঈদের আনন্দে অংশগ্রহণের আশাবাদ
র্যাব মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন যে, গত বছরের মতো এবারও দেশের মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ও আনন্দের সাথে ঈদের উৎসবে শরিক হতে পারবেন। তিনি বলেন, "র্যাবের সকল সদস্য ঈদের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।"
এদিকে, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ঈদের নামাজের সময় জাতীয় ঈদগাহে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও, নামাজের স্থানগুলো আগে থেকেই নিরাপত্তা ঝাড়াইয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিমুক্ত করা হচ্ছে। সারাদেশে র্যাবের এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের উৎসবকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



