এসপি আপেলের 'ভুয়া-এডিটিং' দাবি: তদন্ত কমিটি বিস্মিত, অভিযোগের সত্যতা মিলেছে
এসপি আপেলের 'ভুয়া-এডিটিং' দাবি: তদন্তে বিস্ময়

এসপি আপেলের 'ভুয়া-এডিটিং' দাবি: তদন্ত কমিটি বিস্মিত, অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সদ্য সাবেক এসপি (সুপারনিউমারারি এডিশনাল ডিআইজি) আপেল মাহমুদ তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি ও বদলির বিষয়টিকে 'ভুয়া' এবং 'এডিটিং' করা বলে দাবি করেছেন। তবে, তার এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান, চট্টগ্রাম ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি বিধান ত্রিপুরা। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে 'অতিরঞ্জিত', 'বিভ্রান্তিকর' এবং 'পাগলামি' হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও তদন্ত প্রক্রিয়া

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা নারী কেলেঙ্কারি, অনুমোদন ছাড়া ঘুষের বিনিময়ে সৈকতসংলগ্ন স্থাপনা ভাড়া দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। গত ৬ মার্চ 'কয়লা ধুলে ময়লা যায় না এসপি আপেলের' শিরোনামে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ৭ মার্চ তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ছুটিতে থাকাবস্থায় পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককেও সাক্ষী করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ উঠলেও তদন্ত কমিটি কক্সবাজারে আসার আগেই যেসব অভিযোগ সম্পর্কে অবগত ছিল, মূলত সেসব অভিযোগই গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও বক্তব্যও সংগ্রহ করেছে তদন্ত দল। তদন্ত কমিটির প্রধান বিধান ত্রিপুরা উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগের ধরন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভ্রান্তি ছড়ানো ও আপেলের কৌশল

জানা গেছে, ১৫ মার্চ তদন্ত কমিটি কক্সবাজারে পৌঁছানোর পরপরই আপেল মাহমুদ কিছু ব্যক্তির পাওনা টাকা পরিশোধ করেছেন। এতে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ সন্তোষ প্রকাশ করলেও বড় অঙ্কের কিছু পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজের অবস্থান রক্ষার কৌশল হিসেবে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন ও বদলির বিষয়টিকে 'ভুয়া' দাবি করে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং তার তিনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে তা শেয়ার করেছেন। এমনকি কক্সবাজারের অনেক সাংবাদিককে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্লক করে রেখে এসব প্রচারণা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যাতে স্থানীয়ভাবে বিষয়গুলো সহজে যাচাই করা না যায়।

তার দাবি, যুগান্তরে প্রকাশিত তদন্ত কমিটি ও বদলির তথ্য 'এডিটিং' করে প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও একপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি কক্সবাজার ত্যাগ করার পরপরই আপেল মাহমুদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়—তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সব অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত খবরও কিছু মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আপেল এসব তথ্য শেয়ার করে লিখেছেন, আল্লাহ মহান।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়নি। সংগৃহীত অডিও, ভিডিও ও লিখিত সাক্ষ্য যাচাই-বাছাই শেষে ঈদের পর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তারা জানিয়েছেন, আপেলের মিথ্যাচার তদন্তের কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানানো হবে। কক্সবাজার পুলিশ এই বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে, তবে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।